যাদবপুরের
মিনলদায়ে বসে আছি। পাশেই খানিক দূরে বসে আছে কয়েক জন প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী যাদবপুরের
বাংলা বিভাগের। তারা নিজেদের মধ্যে PhD, stipend, scholarship, research fellowship etc. নিয়ে কথা বলছে। ইতিমধ্যে
যাদবপুরের বাংলা বিভাগের বর্তমান দুটি ছাত্র মিলনদায়ে আসে। তাদের মধ্যে যে আমায়
চেনে সে এগিয়ে আসে আমার সঙ্গে কথা বলতে। তারা চলে যাওয়ার পর প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের
কথোপকথনের মোড় বদল হয়। তারা এই বর্তমান ছাত্র
দুটিকে সমালোচনা করতে থাকে, তাদের বেশভূষা আর body language
নিয়ে। তাদের বক্তব্য বাংলা বিভাগের
ছাত্র হিসেবে jeans মেনে নেওয়া গেলেও, Bermudas আর t-shirt মেনে নেওয়া সম্ভবপর নয় একেবারেই।
ঠিক তখনি আমি লক্ষ্য করে দেখলাম এই প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা কি ভীষণ রাবীন্দ্রিক।
একদিকে চাপ দাড়ি, চামড়ার
চটি, জোলা ব্যাগ অন্যদিকে সুতির
কামিজ, কাঠের চুড়ি,
সুতোর দুল। বাঁধ্নি বা কাঁথাকাজ, মেটে রং বা সাদা। চিনতে ভুল হওয়ার কোন উপায়ে নেই।
এরা
রাবীন্দ্রিক। এরা রবীন্দ্রনাথকে বেঁধে রেখেছে একই জায়গায়, স্থির ও স্থবির করে। যিনি নিজের জীবনে ছিলেন প্রচণ্ড dynamic, তাঁকেই এরা বন্ধী করে ফেলেছে
নিজেদের স্বল্প বুদ্ধির পরিধির মধ্যে। তার বেশী এরা জানতেও চায় না,
মানতেও নারাজ। এরা যা শেখে তার অর্ধেক বোঝে,
যা বোঝে তার অর্ধেক মনে রাখে আর যা মনে রাখে তার অর্ধেক নিজেদের
জীবনে প্রয়োগ করে। তাই এরা কুপোমন্ডক থেকে যায়, রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠা হয়না।
রেখেছও রাবীন্দ্রিক করে
মানুষ করনি।।
1 comment:
যথার্থ। আমি নিজেও অনুভব করেছি। রবিন্দ্রনাথের যুগে বারমুডা থাকলে তিনি নিশ্চয়ই তা পরতেন। যিনি অচলায়তন বা তাসের দেশ লেখেন, তিনি বদ্ধ থাকার বান্দা নন।
Post a Comment