Thursday, 24 September 2015

Bengali viewers get the director they deserve: The deceiver

বাঙ্গালীর অশিক্ষা কি চূড়ান্ত হয়েছে যে ভারতীও জাতীয় সঙ্গীতের “Bengali version” নিয়ে মেতে উঠেছে। উচ্ছ্বাসটা কিন্তু অবাঙ্গালী সম্প্রদায়ের তৈরি করা নয়। Neo-Bengali সিনেমার ধারক ও বাহক সৃজিত মূর্খাজি(intended)র “whispering campaign”. এটা একই সঙ্গে দুর্ভাগ্যজনক ও হাস্যকর। দুর্ভাগ্যজনক দুটি কারণে- প্রথমত, বাংলার একজন দায়িত্বশীল পরিচালক হিসেবে এই ধরণের প্রচারের বীরুধে মুখ খুলছেন না সৃজিত...অবশ্য তাহলে ধরে নিতে হয় যে এই প্রচারে তাঁর সায় নেই, নেই কি? না থাকলে তাঁরই তো উচিৎ প্রথমেই এর বিরোধিতা করা। কিন্তু তা তিনি করছেননা। অতএব ধরে নিতে হবে এ তারই propagated advertisement stunt.

দ্বিতীয়ত, যারা এই তথাকথিত জাতীয় সঙ্গীতের “Bengali version” share like করছেন তারা কি একেবারে ভুলে গেছেন যে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত আদপে বাংলাতেই লেখা? তাও আবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত? গানটির সুর ও তাঁরই দেওয়া?

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ
তব শুভ নামে জাগে, তব শুভ আশিষ মাগে,
গাহে তব জয়গাঁথা।

জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।


সংবিধান অনুজায়ই এতটুকই আছে আমাদের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে। তবে গানটি এখানেই শেষ হয়ে যায়ে না। অন্যেরা না জানুক, বাঙ্গালীদের তো জানা উচিৎ সেটা? 


অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী
হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী
পূরব পশ্চিম আসে তব সিংহাসন-পাশে
প্রেমহার হয় গাঁথা।
জনগণ-ঐক্য-বিধায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা, যুগ যুগ ধাবিত যাত্রী।
হে চিরসারথি, তব রথচক্রে মুখরিত পথ দিনরাত্রি।
দারুণ বিপ্লব-মাঝে তব শঙ্খধ্বনি বাজে
সঙ্কটদুঃখত্রাতা।
জনগণপথপরিচায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

ঘোর তিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে
জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে।
দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে রক্ষা করিলে অঙ্কে
স্নেহময়ী তুমি মাতা।
জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।

রাত্রি প্রভাতিল, উদিল রবিচ্ছবি পূর্ব-উদয়গিরিভালে –
গাহে বিহঙ্গম, পূণ্য সমীরণ নবজীবনরস ঢালে।
তব করুণারুণরাগে নিদ্রিত ভারত জাগে
তব চরণে নত মাথা।
জয় জয় জয় হে জয় রাজেশ্বর ভারতভাগ্যবিধাতা!
জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয় জয় হে।।



কিন্তু সমস্যা কথায় জানেন? সে কথা বেমালুম চেপে গিয়ে, পুরনো মদ নূতন বোতলে packaging মেরে এই সুযোগে কিছু বাহবা কুরিয়ে নিতে চান চিত্রপরিচালক। পর পর কয়েকটা ছবি মুখথুবড়ে পড়ায়ে এবং আলটপকা একটা parallel ছবি commercially সফল হয়ে যাওয়ায় মরিয়া হয়ে পরেছেন সৃজিত। কবিগুরুর আপন credit বোকা বাঙ্গালির মাথায় হাত বুলিয়ে যদি নিজের গায়ে মেখে নেওয়া যায়ে, এই চেষ্টাতেই আছেন তিনি। কিছু দর্শক, কটি পয়সা, আরও কিছুদিন Shree Vyankatesh এর ছত্রছায়া...এসব এর লোভে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
বুঝি। কিন্তু তাতে আমার ভারী বয়ে গেছে। সৃজিতের যদি এই করে নাম হয়, তাতে কবিগুরুর অপমান ও অবমাননা হয়। আমি তা মেনে নিতে পারিনা। আপনি পারছেন কি করে? #BoycottRajkahini


1 comment: